
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন সুইটি আক্তার। মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্প্রতি তাঁর ও নজরুল ইসলাম নামের আরেক বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গত বুধবার, ১৪ অক্টোবর, এ তথ্য জানায় সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
এ খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। তবে সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পারেনি তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর তাঁরা মানুষের মুখে শুনেছেন। এর মাত্র ১৫ দিন আগেও সুইটি ফোন করে বাবাকে জানিয়েছিলেন, দুই মাসের মধ্যে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
সুইটির গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় চার বছর আগে দালালের মাধ্যমে চাকরির জন্য সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। পরে একদিন ফোন করে পরিবারকে জানান, তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, সকালে সুইটির বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমন খবর জানতে পেরে তাঁরা পরিবারের খোঁজ নিতে আসেন। বাড়িতে সুইটির বাবা ফজল মিয়া বিছানায় শুয়ে ছিলেন। মা জহুরা বেগম পরিবারের কাজ করছিলেন। ফজল মিয়া দিনমজুরের কাজ করেন। তাঁর পাঁচ মেয়ের মধ্যে সুইটি সবার ছোট। প্রায় চার বছর আগে ধারদেনা করে মেয়েকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তিনি।
ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এ জন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম পাঁচ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির কোনো খোঁজ পাইনি। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল, দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’
ফজল মিয়ার ভাষ্য, দুই দিন আগে তাঁরা জানতে পারেন, সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।
ফজল মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে, তা-ও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’
সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সুইটির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ১৫ দিন আগে ফোন করে জানিয়েছিল, সে দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানি না। তবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক, আমি আমার মেয়েকে চাই।’
এ বিষয়ে স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।



